Dhaka ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে শত্রুতার আগুনে বসতঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • ১১৪ Time View

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:  আগুনে পুড়ে ঘরের শেষ চিহ্নটুকুও আর নেই। যেখানটায় ঘর ছিল তার এক কোনায় পড়ে আছে ভাত খাওয়ার থালা-বাটি। এর পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ঝলসানো লেপ তোশক। পুড়ে যাওয়া ঘরের কাঠকয়লার মধ্যে নির্বাক বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা সেলিনা বেগম।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মোল্যার স্ত্রী সেলিনা বেগম।

গত ২৩ মে ভোর রাতে আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর। তাদের অভিযোগ, জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিবেশি ফুল মোল্যা গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এখনও দুটি মামলা আদালতে চলমান। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। পুড়ে গেছে ঘরে থাকা খাট-পালং, আলমারী-শোকেস, টেলিভিশন, মোটরসাইকেল, জমির দলিল, নগদ টাকাসহ আসবাবপত্র। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব শাহিন-সেলিনা দম্পত্তি। এ ঘটনায় পরের দিন গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন ভূক্তভোগী শাহিন মোল্যা।

গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চারিদিকে আগুনে পোড়া ভাত খাওয়ার থালা-বাটি, গ্লাস, ঘরের টিন, আলমারী-শোকেস, ট্রাংক, জামা-কাপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পোড়া বাড়ি দেখতে ভিড় করছে স্থানীয় লোকজন। আর পোড়া ঘরের মেঝেতে বসে ফুপিয়ে কাঁদছে সেলিনা বেগম।

সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার পাশে আরেকটা বাড়ি আছে। আমি ঘটনার দিন ওই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় ভোর রাতের দিকে প্রতিবেশি একজন গিয়ে আমাকে জানান-আমার বাড়িতে আগুন লেগেছে। দ্রুত বাড়ি এসে দেখি সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। স্বামীকে নিয়ে এই বাড়িতে আমি বসবাস করতাম। ৩২ বছর ধরে সাজানো সংসার আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছু রক্ষা পায়নি। এখন আমি কোথায় যাব দিশা খুঁজে পাচ্ছি না।’

সেলিনা বেগমের স্বামী শাহিন মোল্যা বলেন, ‘আমার এক ছেলে বিজিবি, অন্য ছেলে নৌবাহিনীতে চাকরি করে। আমি ছোট ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতাম। আমার ছোট ছেলেকে একা পেয়ে কয়েকবার মারধর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আমি থানায় জিডি করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায়ই আমাকে হত্যা ও বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে তাই করেছে। আমার বসতঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে। আমি এখন সব হারিয়ে সর্বশান্ত। আমি থানায় মামলা করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয় অভিযুক্তদের একজন ইসাবুল মোল্যা জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঢাকায় চাকরি করি। সে সুবাদে ঢাকায় থাকি। আমার অন্য ভাইরাও গ্রামের বাইরে থাকেন। জমিজমা সম্পর্কে আমরা ভালো বুঝি না। আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি জমি নিয়ে সমস্যার কথা। তবে নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শাহিন মোল্যা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্তপূর্ববক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মুকসুদপুরে জ্বালানী তেল মজুদ করায় এক ব্যবসায়ীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা 

গোপালগঞ্জে শত্রুতার আগুনে বসতঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার

Update Time : ১২:০৩:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ:  আগুনে পুড়ে ঘরের শেষ চিহ্নটুকুও আর নেই। যেখানটায় ঘর ছিল তার এক কোনায় পড়ে আছে ভাত খাওয়ার থালা-বাটি। এর পাশেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ঝলসানো লেপ তোশক। পুড়ে যাওয়া ঘরের কাঠকয়লার মধ্যে নির্বাক বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা সেলিনা বেগম।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মোল্যার স্ত্রী সেলিনা বেগম।

গত ২৩ মে ভোর রাতে আগুনে পুড়ে গেছে বসতঘর। তাদের অভিযোগ, জায়গা-জমি নিয়ে প্রতিবেশি ফুল মোল্যা গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এখনও দুটি মামলা আদালতে চলমান। এরই জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। পুড়ে গেছে ঘরে থাকা খাট-পালং, আলমারী-শোকেস, টেলিভিশন, মোটরসাইকেল, জমির দলিল, নগদ টাকাসহ আসবাবপত্র। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের। সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব শাহিন-সেলিনা দম্পত্তি। এ ঘটনায় পরের দিন গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন ভূক্তভোগী শাহিন মোল্যা।

গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, চারিদিকে আগুনে পোড়া ভাত খাওয়ার থালা-বাটি, গ্লাস, ঘরের টিন, আলমারী-শোকেস, ট্রাংক, জামা-কাপড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পোড়া বাড়ি দেখতে ভিড় করছে স্থানীয় লোকজন। আর পোড়া ঘরের মেঝেতে বসে ফুপিয়ে কাঁদছে সেলিনা বেগম।

সেলিনা বেগম বলেন, ‘আমার পাশে আরেকটা বাড়ি আছে। আমি ঘটনার দিন ওই বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় ভোর রাতের দিকে প্রতিবেশি একজন গিয়ে আমাকে জানান-আমার বাড়িতে আগুন লেগেছে। দ্রুত বাড়ি এসে দেখি সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। স্বামীকে নিয়ে এই বাড়িতে আমি বসবাস করতাম। ৩২ বছর ধরে সাজানো সংসার আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। পড়নের কাপড় ছাড়া আর কিছু রক্ষা পায়নি। এখন আমি কোথায় যাব দিশা খুঁজে পাচ্ছি না।’

সেলিনা বেগমের স্বামী শাহিন মোল্যা বলেন, ‘আমার এক ছেলে বিজিবি, অন্য ছেলে নৌবাহিনীতে চাকরি করে। আমি ছোট ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করতাম। আমার ছোট ছেলেকে একা পেয়ে কয়েকবার মারধর করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আমি থানায় জিডি করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রায়ই আমাকে হত্যা ও বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। পরে তাই করেছে। আমার বসতঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিয়েছে। আমি এখন সব হারিয়ে সর্বশান্ত। আমি থানায় মামলা করেছি। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয় অভিযুক্তদের একজন ইসাবুল মোল্যা জমি নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঢাকায় চাকরি করি। সে সুবাদে ঢাকায় থাকি। আমার অন্য ভাইরাও গ্রামের বাইরে থাকেন। জমিজমা সম্পর্কে আমরা ভালো বুঝি না। আমার বাবার কাছ থেকে শুনেছি জমি নিয়ে সমস্যার কথা। তবে নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী শাহিন মোল্যা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্তপূর্ববক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’