Dhaka ১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুরে ফেলনা পাটকাঠি এখন আয়ের উৎস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

মুকসুদপুর-গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সোনালী আঁশের জন্য খ্যাত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা। এক সময় পাটকাঠি কৃষকদের বোঝা মনে হলেও এখন ফেলনা নয় আয়ের উৎস। আগে জ্বালানী,ঘরের বেড়া, ছাউনি তৈরির পাটকাঠি এখন পাটের পাশাপাশি দেশ ও বিশ্ব বাজারে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এখন কৃষক স্বপ্ন দেখেন সোনালী আঁশের সাথে রুপালী কাঠি বিক্রি করে লভবান হওয়ার। এ বছর উপজেলায় পাটের বাম্পান ফলন সাথে পাটকাঠির কদর বেড়েছে। পাট শুকিয়ে সোনালী আঁশ ঘরে তুলছেন, বিক্রিও করছেন ভালো দামে। অন্যদিকে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে বাড়ী আঙ্গিনায় পালা দিয়ে রাখছেন চড়া দামে বিক্রির আশায়। যে দিকে দু চোখ যায় রুপালী কাঠি রক্ষনাবেক্ষনের কাজে ব্যস্ত কৃষক। স্থানীয়রা জানায় এক সময় ৯০ ভাগ কৃষক মনে করতেন এটা জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার ছাড়া কিছুই করা যায় না, তাই যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হতো। বিশ্ব বাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি দামও ভালো পাওয়া যায়। অনেক কৃষক পাটের সঠিক মূল্যে না পেলেও পাটকাঠিতে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের পাট চাষী জাকির মোল্যা বলেন কয়েক বছর আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙ্গীনায় পঁচে নস্ট হতো। বর্তমানে পাটকাঠি ব্যাপক চাহিদা তাই ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।

পশারগাতী গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন ফেলনা পাটকাঠি আগে কদর ছিলো না তাই ফেলে দিত এখন এটা সোনার হরিণ যত সময় নিয়ে বিক্রি করা যাবে তত লাভবান হওয়া যায়।

মোঃ মামুন শেখ নামে এক ব্যক্তি জানায় উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের চারকোলা মিল স্থাপন হয়েছে এখানে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বের করা হয়। সেই ছাই থেকে কার্বন পেপার, কিম্পউটারের প্রিন্টারের কালি, ফোটোকপি কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারী ,প্রসাধণী পন্য, বিষ ধ্বংসকারী ওষুদ ,দাঁত পরিস্কারের ওষুদ, সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সাথে ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। তাই দেশে ও বিদেশে বেড়েছে কাটকাঠির কদর ।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমান পাটকাঠি পাওয়া যাবে কৃষকরা দামও ভালো পাবেন।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেন পাট উৎপাদনে দেশের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ৯ম স্থানে রয়েছে জেলার মধ্যে এ উপজেলা বেশি পাট উৎপাদন হয় এবার পাটের পাশাপাশি কাটকাঠিতে কৃষক লাভবান হবেন আশা করা যাচ্ছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মুকসুদপুরে ফেলনা পাটকাঠি এখন আয়ের উৎস

Update Time : ১২:০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মুকসুদপুর-গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সোনালী আঁশের জন্য খ্যাত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা। এক সময় পাটকাঠি কৃষকদের বোঝা মনে হলেও এখন ফেলনা নয় আয়ের উৎস। আগে জ্বালানী,ঘরের বেড়া, ছাউনি তৈরির পাটকাঠি এখন পাটের পাশাপাশি দেশ ও বিশ্ব বাজারে ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে। এখন কৃষক স্বপ্ন দেখেন সোনালী আঁশের সাথে রুপালী কাঠি বিক্রি করে লভবান হওয়ার। এ বছর উপজেলায় পাটের বাম্পান ফলন সাথে পাটকাঠির কদর বেড়েছে। পাট শুকিয়ে সোনালী আঁশ ঘরে তুলছেন, বিক্রিও করছেন ভালো দামে। অন্যদিকে পাটকাঠি রোদে শুকিয়ে বাড়ী আঙ্গিনায় পালা দিয়ে রাখছেন চড়া দামে বিক্রির আশায়। যে দিকে দু চোখ যায় রুপালী কাঠি রক্ষনাবেক্ষনের কাজে ব্যস্ত কৃষক। স্থানীয়রা জানায় এক সময় ৯০ ভাগ কৃষক মনে করতেন এটা জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার ছাড়া কিছুই করা যায় না, তাই যেখানে সেখানে ফেলে রাখা হতো। বিশ্ব বাজারে পাটকাঠির চাহিদা বাড়ায় পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি দামও ভালো পাওয়া যায়। অনেক কৃষক পাটের সঠিক মূল্যে না পেলেও পাটকাঠিতে তা পুষিয়ে নিচ্ছেন।

উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের পাট চাষী জাকির মোল্যা বলেন কয়েক বছর আগে পাটকাঠি বাড়ির আঙ্গীনায় পঁচে নস্ট হতো। বর্তমানে পাটকাঠি ব্যাপক চাহিদা তাই ভালো দাম পাওয়ায় তিনি খুশি।

পশারগাতী গ্রামের কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন ফেলনা পাটকাঠি আগে কদর ছিলো না তাই ফেলে দিত এখন এটা সোনার হরিণ যত সময় নিয়ে বিক্রি করা যাবে তত লাভবান হওয়া যায়।

মোঃ মামুন শেখ নামে এক ব্যক্তি জানায় উপজেলার বাটিকামারী ইউনিয়নের চারকোলা মিল স্থাপন হয়েছে এখানে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বের করা হয়। সেই ছাই থেকে কার্বন পেপার, কিম্পউটারের প্রিন্টারের কালি, ফোটোকপি কালি, আতশবাজি, মোবাইল ব্যাটারী ,প্রসাধণী পন্য, বিষ ধ্বংসকারী ওষুদ ,দাঁত পরিস্কারের ওষুদ, সার উৎপাদনের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই সাথে ছাই থেকে বের হওয়া কার্বন বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। তাই দেশে ও বিদেশে বেড়েছে কাটকাঠির কদর ।

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন চলতি মৌসুমে উপজেলার ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমান পাটকাঠি পাওয়া যাবে কৃষকরা দামও ভালো পাবেন।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির বলেন পাট উৎপাদনে দেশের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা ৯ম স্থানে রয়েছে জেলার মধ্যে এ উপজেলা বেশি পাট উৎপাদন হয় এবার পাটের পাশাপাশি কাটকাঠিতে কৃষক লাভবান হবেন আশা করা যাচ্ছে।