Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুরে ৮ মাস পরে হত্যা মামলা দায়ের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯৯ Time View

মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ৮ মাস পর বেবী বেগম (৪০) হত্যা মামলা দায়ের হলেও এখনো আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। গত ১৯ মার্চ স্বামীর বাড়িতে বেবী বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে, নিহতের পিতা সানোয়ার মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের সানোয়ার মোল্যার মেয়ে বেবী বেগমের সঙ্গে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের মৃত কুটি মিয়া শেখের ছেলে দুলাল শেখের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।

সংসার জীবনের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ বেবী বেগম স্বামীর বাড়িতে মারা যান বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে ঘটনার পর আইনুগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তড়িঘড়ি করে স্থানীয়ভাবে তার লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যা মনে হলে নিহতের পিতা সানোয়ার মোল্যা ৭ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ আদালতে একটি কোর্ট পিটিশন হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কোর্ট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর মুকসুদপুর থানা মামলাটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করে (মামলা নং-০৬)। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ২৫ ডিসেম্বর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়।

লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, কাশিয়ানী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাফিছুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সালাউদ্দিন সুজন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমাম, ডোম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মামলার বাদী সানোয়ার মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে তার মেয়ে বেবী বেগম আসামি শামিমা বেগম ও আলমগীর শেখের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করেন। বিষয়টি প্রকাশ না করতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা বেবীকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, স্বামী ও সন্তানরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে লোহার রড দিয়ে বাম হাতে ও পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে, পরে গামছা পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা বেবীর স্বামীকে খবর দেয়। পরে কোনো সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত লাশ দাফন করে।

বাদী বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার দাবি করছি।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতন্তের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় কবর থেকে লাশ তুলে গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গোপালগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন

মুকসুদপুরে ৮ মাস পরে হত্যা মামলা দায়ের

Update Time : ০৮:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ৮ মাস পর বেবী বেগম (৪০) হত্যা মামলা দায়ের হলেও এখনো আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। গত ১৯ মার্চ স্বামীর বাড়িতে বেবী বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে, নিহতের পিতা সানোয়ার মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়ীয়া গ্রামের সানোয়ার মোল্যার মেয়ে বেবী বেগমের সঙ্গে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের মৃত কুটি মিয়া শেখের ছেলে দুলাল শেখের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে।

সংসার জীবনের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মার্চ বেবী বেগম স্বামীর বাড়িতে মারা যান বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে ঘটনার পর আইনুগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তড়িঘড়ি করে স্থানীয়ভাবে তার লাশ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পরিকল্পিত হত্যা মনে হলে নিহতের পিতা সানোয়ার মোল্যা ৭ জনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ আদালতে একটি কোর্ট পিটিশন হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কোর্ট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ ডিসেম্বর মুকসুদপুর থানা মামলাটি আমলে নিয়ে মামলা রুজু করে (মামলা নং-০৬)। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ২৫ ডিসেম্বর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়।

লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, কাশিয়ানী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাফিছুর রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সালাউদ্দিন সুজন, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমাম, ডোম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মামলার বাদী সানোয়ার মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার কিছুদিন আগে তার মেয়ে বেবী বেগম আসামি শামিমা বেগম ও আলমগীর শেখের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করেন। বিষয়টি প্রকাশ না করতে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা বেবীকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, স্বামী ও সন্তানরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে আসামিরা ঘরে প্রবেশ করে লোহার রড দিয়ে বাম হাতে ও পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে, পরে গামছা পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা বেবীর স্বামীকে খবর দেয়। পরে কোনো সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত লাশ দাফন করে।

বাদী বলেন, আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার দাবি করছি।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আদালতের নির্দেশে ময়নাতন্তের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় কবর থেকে লাশ তুলে গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত রিপোর্ট পেয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।